শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

মায়ের জন্য প্রবাসী কিশোরের ভালোবাসার নজির

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে প্রবাসী কিশোর রাশেদ অনেকের কাছেই এখন পরিচিত মুখ। তার বয়স মাত্র ১৮ বছর। এই বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত সময় কাটানোর কথা তার। অথচ খুব অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরার জন্য নিজের আহ্লাদ ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি আরবে। সেখানে আয়ের পাশাপাশি আলুর ভর্তা আর ডাল খেয়ে জমানো টাকাও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন এ কিশোর।

গত ২৬ আগস্টে প্রবাসী বাংলাদেশি নামক ফেসবুক পেজে রাশেদের সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি প্রকাশ হয়। সাক্ষাৎকারটি যিনি নিয়েছেন তার নামও রাশেদ। পরবর্তীতে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। সেই সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, প্রতি মাসে ১৫০০ থেকে ১৬০০ রিয়াল আয় করেন রাশেদ। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় হয় ৩৬ হাজারের বেশি। যা আয় হয় তা থেকে প্রতিমাসে বাংলাদেশি টাকায় ৩০ হাজার বা ২৮ হাজার পরিবারের কাছে পাঠান রাশেদ। কখনই দেশে ২৪ হাজার টাকা নিচে পাঠান না। আর খাওয়া বাবদ তিনি মাসে মাত্র ২০ থেকে ৩০ রিয়াল খরচ করেন।

১৭ বছরের কিশোর রাশেদ জানান, মোবাইলের কার্ড কেনেন না তিনি। ওয়াইফাই ব্যবহার করেন। রাশেদ জানান, ১ বছর ৪ দিন তিনি সৌদি আরবে আছেন। ডাল আর আলু ভাজি ও ভর্তা খেয়ে দিন পার করেন। টাকা বেশি খরচ হবে বলে মাছ-মাংস খান না। সৌদিতে আসার প্রথম দিকে মাছ-মাংস খেতেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। ভিডিও গ্রহণের দিন অন্যের দেয়া রাশেদ বেগুনের সঙ্গে আলু রান্না করে খেয়েছেন বলেও জানান।

ভিডিওতে দেখা প্রশ্নকর্তা প্রবাসী রাশেদকে জিজ্ঞেস করেন- দেশে সবচেয়ে বেশি কাকে মিস করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাশেদ বলেন, মাকে সবচেয়ে মিস করি। বোনের বিয়ের জন্য টাকা লাগবে এজন্য বেশি টাকা দিতে হবে বলে ভাবনায় আছেন রাশেদ। ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা নিয়েও চিন্তিত রাশেদ।

মাকে নিয়ে রাশেদ বলেন, হাশরের ময়দানে মা আল্লাহর কাছে জবার দিলে আমি জান্নাত পাবো। মা আমাকে ১০ মাস ১০ দিন কষ্ট করে জন্ম দিয়েছেন। আমি মায়ের কষ্ট না বুঝলে কে বুঝবে? মা মারা গেলে তো টাকা আমার কাছে থাকবে। সব মায়ের ভালোবাসা থেকে করছি। আমার পকেট চেক করলে এক টাকাও পাবেন না।

এদিকে পরিবারের প্রতি রাশেদের দায়িত্বশীলতা ও মা-বাবা, ভাই-বোনের জন্য তার ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রকাশ নিয়ে সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাশেদ ভাইরাল হয়ে গেছেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »

Translate »