বৃহঃস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১

‘গ্যাটকো দুর্নীতিতে খালেদা জিয়ার জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে’

গ্যাটকো দুর্নীতিতে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ কথা বলা হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রকাশ করেছেন। বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এ রায়।

গ্যাটকো (গ্লোবাল অ্যাগ্রোট্রেড প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেড) মামলা বাতিলে দুই আসামি সৈয়দ গালিব ও সৈয়দ তানভীরের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্ট বলেছেন, অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আর এতে সুবিধা নিয়েছিলেন আরাফাত রহমান কোকো। আদালত তার পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ বাকিদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনকে আসামি করে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে মামলাটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্ট এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন ও রুল দেন। ওই সময় থেকে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল। ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের বেঞ্চ।

গ্যাটকো মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।

খালেদা জিয়া ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও এম কে আনোয়ার, সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ ২৪ জনকে এ মামলার আসামী করা হয়। এদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। তারা হলেন-সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, এম কে আনোয়ার, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহমেদ আবুল কাশেম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »

Translate »