বৃহঃস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১

মহামারি থেকে হেফাজত চেয়ে শেষ হলো হজ

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছরও সীমিত পরিসরে মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে মসজিদে নামিরায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হলো হজ। আজ সোমবার এই পবিত্র দিনে ৬০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জোহর ও আসরের নামাজ এক আযানে ইকামতে আদায় করেন। আজকের এ দিনটিকে বলা হয় আরাফাত দিবস। শুভ্র বসনে পবিত্র অনুভব আর ঐশী আবেগে উদ্ভাসিত অভিন্ন অবস্থানে নারী-পুরুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিয়া মাতা লাওয়াকুলমুলক লা শারিকালাক।’

সৌদির স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০মিনিটে সালাম দিয়ে হজের খুতবা শুরু করেন সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, শীর্ষ ওলামা পরিষদ এবং গবেষণা-মুফতি বোর্ডের সদস্য, মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ও শায়খ ড. বান্দার বিন আবদুল আজিজ আল-বালিলা। তিনি আল্লাহ-তায়ালার প্রশংসা ও হযরত মুহাম্মাদ’র (সা.) ওপর দরুদ পড়ার মাধ্যমে খুতবাহ শুরু করেন। এবারের হজে অংশগ্রহণকারী উপস্থিত হাজিদের সুস্থতা কামনায় দোয়া করেন তিনি।

হজের খুতবায় শায়খ বালিলাহ মুসলিম উম্মাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, উম্মতে মুসলিমদের উচিত পরস্পরের মাঝে সৌহার্দ্য ও সদ্ভাব বজায় রাখা। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিজের নফসকে হেফাজত কর। আল্লাহর ওয়াস্তে তোমার প্রতিশ্রুতি পূরণ কর।

২৫ মিনিটব্যাপী খুতবার শেষাংশে সৌদি সরকারের জন্য দোয়া করেন বালিলা। সেই সঙ্গে বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করেন। করোনাকে মহামারি উল্লেখ করে এর থেকে বিশ্ববাসীর হেফাজতের জন্য দোয়া করেন। সর্বাবস্থায় আল্লাহর দরবারে যাবতীয় সমস্যার জন্য বেশি বেশি দোয়া করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খুতবা শেষে জোহরের নামাজের আযান দেওয়া হয়। এরপর খতিব উপস্থিত হাজিদের নিয়ে দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। গত বছরের মতো এবছরও পবিত্র হজের আরবী খুতবা অন্যন্য খুতবার পাশাপাশি দ্বিতীয় বারের মতো বাংলা ভাষায়ও অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হয়েছে। বাংলা ভাষা ছাড়াও বাকী নয়টি ভাষা হলো ইংরেজি, মালয়, উর্দু, ফার্সি, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন, তুর্কি, রুশ ও হাবসি। ২০১৯ সালের পবিত্র হজে ৫ ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ প্রচারিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতিবছরের ৯ জিলহজ্জ আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। এই আরাফাতের ময়দানেই হযরত মুহাম্মাদ (মা.) বিদায়ী হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

বছর জুড়ে কালো গিলাফ বা কিসওয়ায় আবৃত থাকে পবিত্র কাবা শরীফ। প্রতি বছর হজের দিন ৯ জিলহজ ফজরের নামাজের পর পরই পরানো হয় নতুন গিলাফ।

৯ জিলহজ্জ সোমবার ফজরের নামাজের পর হজযাত্রীরা আরাফাত ময়দানে চলে গেলে গিলাফ পরিবর্তনের কথা থাকলেও রীতি ভেঙে গতকাল রোববার রাতে পুরনো গিলাফ বদলে নতুন গিলাফ চড়ানোর কাজ শুরু হয়। হারামাইন শরাফাইনের সভাপতির তত্বাবধানে গিলাফ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষে করেন এ কাজে নিয়োজিত বিশেষ কর্মীরা। এদিকে গিলাফ পরিবর্তনের কাজে অংশ নিয়েছে সৌদির প্রভাবশালী অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান।

এর আগে কাবার নতুন গিলাফ বাদশা আবদুল আজিজ কিসওয়া কমপ্লেক্স থেকে অত্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত একটি বিশেষ ট্রাক করে সুসজ্জিত বহরের মাধ্যমে মসজিদুল হারামে নিয়ে যাওয়া হয়। কাবা শরীফের নতুন এই গিলাফে ৬৭০ কেজি খাঁটি রেশম, ১২০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ এবং ১০০ কেজি রুপার সুতা ব্যবহার করা হয়েছে। স্বর্ণের সুতো দিয়ে গিলাফের বিভিন্ন অংশে কোরআনের আয়াত লেখা হয়েছে। পুরনো গিলাফের বিভিন্ন অংশ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের সরকার প্রধানসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »

Translate »