রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

কৃতজ্ঞতা বা শোকর

দান বা অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার নির্দেশ রয়েছে। দানের পরিমাণ হিসেবে কৃতজ্ঞতার পরিমাণও বৃদ্ধি করতে হয়। আল্লাহ অনুগ্রহ করে আমাদেরকে অগণিত সম্পদ দান করেছেন। দৈহিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, দৃষ্টিশক্তি, স্মৃতিশক্তি, শ্রবণশক্তি, চিন্তা করার শক্তি ইত্যাদি সর্বশ্রেষ্ঠ দান হিসেবে আমরা আল্লাহর তরফ হতে প্রাপ্ত হয়েছি। তার কাছে হৃদয়ভরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।

জিহ্বার কৃতজ্ঞতা তাহলীল, তাহমীদ ও তসবীহ পাঠ। কপালের কৃতজ্ঞতা সিজদাহ্। চক্ষুর কৃতজ্ঞতা অবৈধ জিনিস হতে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা। এরূপ দেহের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কৃতজ্ঞতা বা শোকর করতে হয়। আল্লাহ্ ঘোষণা করেছেন, ‘আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হবে না। আমার শোকরকারীদেরকে (কৃতজ্ঞদেরকে) শিগগিরই পুরস্কার দেব।’ ইত্যাদি।

১. হাদিস: হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কৃতজ্ঞ ভক্ষণকারী সহিষ্ণু রোজাদারের মর্যাদা পাবে। (বোখারি, আহমদ, তিরমিজি)

২. হাদিস: হজরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে লোকের কাছে কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ নয়। (বোখারি, আহমদ, তিরমিজি)

৩. হাদিস: হজরত উসমান বিন যায়েদ (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (স.) বলেছেন, উপকৃত ব্যক্তি যদি উপকারী ব্যক্তিকে বলে, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন, তাহলে সে পূর্ণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। (তিরমিজি)

৪. হাদিস: হজরত আতা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হজরত আয়েশাকে বললাম : রাসূলুল্লাহ (স.)-এর সম্পর্কে যা আশ্চর্য দেখেছেন তা আমাকে বলুন। তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং বললেন: এটা হতে কোন বিষয় অধিক আশ্চর্যজনক! তিনি এক রাত্রে এসে আমার শয্যায় শয়ন করলেন। আমার দেহ তার দেহকে স্পর্শ করেছিল। তখন তিনি বললেন, হে আয়েশা! আমাকে ছেড়ে দাও। তুমি কি আমার প্রভুর ইবাদত করবে? আমি বললাম: আমি আপনার সঙ্গ ভালোবাসি, কিন্তু আপনার ইচ্ছাই পছন্দনীয়। আমার অনুমতি পেয়ে তিনি পানির মশকের কাছে গিয়ে অজু করলেন, কিন্তু অধিক পানি ব্যয় না করেই তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। তার অশ্রু বক্ষস্থল পর্যন্ত প্রবাহিত হতে লাগল। অতঃপর তিনি রুকু দিলেন, তারপর তিনি সিজদায় গিয়ে কাঁদতে লাগলেন। মাথা তুলেও তিনি কাঁদতে লাগলেন। এভাবে ক্রন্দন করার সময় বেলাল তাকে নামাজের জন্য ডাকলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনার পূর্বাপর সকল দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করা সত্ত্বেও আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি কি তার কৃতজ্ঞ বান্দাহ হবো না? (মুসলিম)

৫. হাদিস: হজরত আবু বার্ক্বাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কোনো সুসংবাদ রাসূলুল্লাহ (স.)-এর কাছে পৌঁছত তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা আপনার্থে সিজদায় পড়ে যেতেন। (আবু দাউদ, তিরমিজি)

৬. হাদিস: হজরত সায়াদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা হতে মদিনা যাওয়ার পথে আমরা যখন ‘গাওয়া নামক স্থানের নিকট পৌঁছলাম, রাসূলুল্লাহ (স.) অবতরণ করে এক ঘণ্টা পর্যন্ত হস্ত উত্তোলন করে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি অনেকক্ষণ সিজদাতে থেকে আবার উঠে এক ঘণ্টা পর্যন্ত হাত তুলে রাখলেন। অতঃপর তিনি আবার সিজদায় গেলেন। তিনি বললেন, আমার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলাম। তিনি আমার উম্মতের এক-তৃতীয়াংশ আমাকে দিলেন এবং আমার উম্মতের জন্য শাফায়াত করলাম। তিনি আমার উম্মতের এক-তৃতীয়াংশ আমাকে দিলেন। তারপর আমি আমার প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতার সিজদাহ করলাম এবং মাথা তুলে আবার প্রার্থনা করলাম, তাতে তিনি অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ আমাকে দিলেন। অতঃপর আমার প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনার্থে আমি সিজদায় পড়লাম। (আহমদ, আবু দাউদ)

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »

Translate »